Ekhon TV :: এখন টিভি

রাজশাহীতে ৬০ কোটি টাকার গুড় বিক্রির আশা

এবার খেজুর গুড় বিক্রি বেড়েছে অনলাইনেও

১১ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩০

সারা দেশের মতো উত্তরের জনপদেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সঙ্গে বেড়েছে খেজুর রসের যোগান। তাইতো পাটালি, নলেন, ঝোলাসহ সবধরনের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছি আর ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীর হাট-বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও বেড়েছে গুড় বিক্রি। 

কৃষি বিভাগের হিসেবে, এবার রাজশাহীতে প্রায় সাড়ে চার লাখ খেজুর গাছের রস থেকে ৬০ কোটি টাকার গুড়ের বেচাকেনা হবে। 

গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাতভর খেজুরের রসে শুধু হাড়িই ভরে না, আনন্দে ভরে ওঠে গাছিদের মনও। দিন শুরুর সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যস্ততা বাড়ে কৃষকের আঙ্গিনায়। পরিশ্রম আর একাগ্রতায় চলে স্বাদের নির্মাণ। ধাপে ধাপে তৈরি হয় সুমিষ্ট খেজুর গুড়।

সকালের উৎপাদিত গুড় মজুদ হয় কৃষকের ঘরে। বিক্রি হয় সপ্তাহের শনি-রবি, মঙ্গল ও বুধবারের হাটে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্যানগাড়ি, ট্রাক্টরসহ নানা ভাবে জেলার চারঘাট-বাঘা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার গুড় আসে বানেশ্বর ও ঝলমলিয়া হাটে। গুড়ের ঘ্রাণ আর মিষ্টতার পার্থক্যে চলে গাছি আর ব্যাপারীর দরদাম। রাজশাহীর বানেশ্বর ও ঝলমলিয়া হাটে পাইকারি মূল্যে প্রতি কেজি খুরিগুড় ১৪৫ টাকা, পাটালি গুড় ১৫০ টাকা আর দানাদার ঝোলা গুড় বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। এসব গুড় যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, নড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায়।

হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা বলেন, ‘এবছর গুড়ের যে দাম চলছে তাতে সকল খরচ দিয়েও ভালো লাভবান হবেন সংশ্লিষ্টরা।’

জেলায় মৌসুম জুড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ খেজুর গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় রস। যা থেকে, প্রতি ১০০ লিটারে উৎপাদন হয় ২০ কেজি গুড়। হাটের পাশাপাশি গেল তিন বছর ধরে রাজশাহীর গুড় বিক্রি বেড়েছে অনলাইনে। প্রতিদিনের গুড় পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার কাছে। এখানে প্রতি কেজি জিরান পাটালি ৩০০, ঔষধি মসলা গুড় ৪০০ ও জিরান রসের নারিকেল গুড় বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়।

এক অনলাইনের উদ্যোক্তা বলেন, ‘যেখানে গুড় তৈরি করা হয় আমরা সেখানে গিয়ে লাইভ ভিডিও প্রকাশ করে থাকি। এতে ক্রেতা তার পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে আমাদের কাছ থেকে গুড় কিনতে পারে।’

এবিষয়ে এক গাছি বলেন, ‘বাজারে না গিয়ে ঘরে বসেই আমরা বেশি দামে অনলাইনে গুড় বিক্রি করতে পারছি। এটা আমাদের জন্য অনেক ভালো একটা মাধ্যম।’

চলতি মৌসুমে জেলায় ৬০ কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতি বছর গুড়ের চাহিদা বাড়তে থাকায় জেলার তিন উপজেলায় কৃষি বিভাগের সহায়তায় নতুন করে খেজুর বাগান গড়ছেন চাষীরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোজদার হোসেন বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে গাছিদের সকল প্রকার সহযোগীতা দিয়ে আসছে।’

অনলাইন কিংবা হাট-বাজার সবখানেই এখন বেড়েছে গুড় বেচাকেনা। যা চলবে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে চলতি মৌসুমে জেলায় ৮ হাজার টনের বেশি গুড় উৎপাদন হবে।

আকন

Advertisement
Advertisement
Advertisement